১২ টা সূর্যনমস্কারে জ্বর হয়ে গেল পগার পার! 12 sun salutation helped me recovered from fever!

ধর্মতলা থেকে দু’ঘণ্টা লাগতো বাড়ি ফিরতে। অফিস থেকে আস্তে আস্তে ভিজে ভুত। নর্দমার পচা জল আর মাথায় বৃষ্টির ফোঁটা। পরদিন থেকে প্রচণ্ড জর ও শ্বাসকষ্ট।

ক্লাশ ফোরে পড়ি তখন। মনে পড়ে, বাবা একটা যোগব্যায়ামের বই এনে দিয়েছিল দাদার জন্য। নীলমণি দাসের যোগব্যায়াম শিক্ষা। সেই বইয়ের ভেতরে মাঝের দিকে একটা চ্যাপ্টার ছিল যেটাতে একটা মানব শরীরের ছবি দেওয়া ছিল এবং সেই ছবির শিরদাঁড়ার অংশে ৭টা চক্র আঁকা ছিল। সবথেকে ওপরে পদ্মফুলের মতো সহস্রদল চক্র। এই হল আমার যোগব্যায়ামের সাথে প্রথম আলাপ।

স্কুলে শেখা প্রাথমিক যোগব্যায়াম

কি জানি কেন, ওই চ্যাপ্টার পোড়তে আমার ভীষণ ভাল লাগত। পরে গিয়ে জানতে পেরেছিলাম ওটা আসলে ক্রিয়া যোগের বিষয়ে খানিকটা লেখা ছিল।  তারপর যখন ক্লাস সিক্সে উঠলাম। শারীরশিক্ষা এবং কর্মশিক্ষা বিষয় আমাদের ক্লাশে শেখাতে সুরু করল আমাদের স্কুলের খেলাধুলো করার রোগা ছিপছিপে দিলিপ স্যার। আমরা সবাই দিলিপবাবু বলেই ডাকতাম সেই স্যার কে।

প্রথমে আমাদের শেখানো হয়েছিল পদ্মাসন, বজ্রাসন, ভদ্রাসন, পদহস্তাসন, চক্রাসন এবং সবার প্রিয় শবাসন দিয়ে। তারপর আরও একটু কঠিন ব্যায়াম সুপ্তবজ্রাসন, উত্থিত পদ্মাসন এইসব শেখানো হয়েছিল। কিন্তু ক্লাস এইটে ওঠার পর আর শারীরশিক্ষা ক্লাস রাখেনি এখনও পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারিনি।

তবে সেই যে ছোটবেলার বেলার স্মৃতি আমি কখনও ভুলতে পারিনি। যেন খুব প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে আমার সাথে থেকে গেছিল। এখন অনেকেই দেখি জিমে যায় বডি শেপিং করার জন্য। ২০, ২২ বছর বয়সে আমারও ইচ্ছে হয়েছিল জিমে গিয়ে মাশ্‌ল্‌ বানানোর কিন্তু যোগব্যায়ামের সেই চ্যাপ্টারটা আমার পেছন ছাড়ছিল না।

বাড়িতে ডাম্বেল, শাবল এইসব নিয়ে পেশি ফোলানোর ব্যায়াম করলেও। সেই যে স্কুলের সেখান সাধারন যোগব্যায়াম একটু না করলে যেন ব্যায়াম অসম্পূর্ণ লাগত।

জ্বরের জন্য মোক্ষম ব্যায়াম সূর্যনমস্কার!

তো এইভাবে বেশ চলছিল, ঘটনা ঘটল ২০১৪ সালে। সবে মাত্র বছরখানেক হয়েছে চাকরীতে ঢুকেছি। বর্ষাকাল। ধর্মতলা থেকে দু’ঘণ্টা লাগতো বাড়ি ফিরতে। অফিস থেকে আস্তে আস্তে ভিজে ভুত। নর্দমার পচা জল আর মাথায় বৃষ্টির ফোঁটা। পরদিন থেকে প্রচণ্ড জর ও শ্বাসকষ্ট। রাতে ঘুম হচ্ছে না শ্বাসকষ্টে। বসে বসে কেটে যাচ্ছে সারারাত।

আর সত্যি কথা বলতে এলোপ্যাথি ওষুধ আমি একদম পছন্দ করতাম না করিও না এখনও পর্যন্ত। হাজার কারনে, একটা অসুখ সারাতে অন্য রোগ শরিরে প্রবেশ করায়, অ্যালার্জির প্রবনতা বাড়িয়ে দেয়, আর শরীর গরম করে, হজমে গণ্ডগোল বাঁধায় যার কারনে অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট খেতে হয়, যার আবার অন্য সাইডএফেক্ট আছে, মানে চেন রিয়াক্সানে কিছুনা কিছু রোগ হতেই থাকে। তবে এলোপাথাড়ির একটা গুন আছে। খুব তাড়াতাড়ি এমারজেন্সি ওষুধ হিসেবে কাজে লাগে। যেখানে কোনও রুগীর খুব দ্রুত ইম্প্রুভমেন্ট দরকা সেখানে খুব তাড়াতাড়ি কাজ করে, এই এলোপাথাড়ি ওষুধ।

তো, অফিস জেতে পারিনি দুইদিন। শ্বাসকষ্টে ভুগছি। কি করব, শুয়ে শুয়ে মোবাইলে সূর্যনমস্কার সম্বন্ধে পড়লাম। ঠিক করলাম যোগব্যায়াম করেই এই রোগ থেকে মুক্তি পাবো।

সকালে উঠে গুনে গুনে ১২টা সূর্যনমস্কার চালু করলাম। প্রতিদিন সকালে ১২বার বিকেলে ৬বার। ব্যাস, ৩দিনের দিন জ্বর, শ্বাসকষ্ট ভ্যানিস। শরীর ফুরফুরে হয়ে গেল। চার দিনের দিন আবার অফিস জয়েন করলাম। যদিও অফিসে ডাক্তারি সার্টিফিকেট দেখাতে পারিনি।

তো, আমার জীবনে যোগব্যায়ামের প্রভাবগুলোর মধ্যে এই একটা ঘটনা তোমাদেরকে জানালাম। আরও অনেক ভাবেই আমি যোগব্যায়ামের উপকার পেয়েছি। সবই ধিরে ধিরে তোমাদের জানাবো।