নতুন ট্রেকিং বুট কিনবে ভাবছো? এই ৬টা বিষয় অবশ্যই দেখে নাও! 6 things to check before buying trekking shoe!

পা ভালো তো সব ভালো। হ্যাঁ খুব বড় ট্রেকিং হোক বা ছোট খাটো হাইকিং, হাঁটার সময় পা যদি আরামে খাকে তাহলে তো আর কথাই নেই। তাই যখনই ট্রেকিং বা হাইকিং -এর প্ল্যান করো না কেন, এক মাস আগে থেকে একজোড়া ভালো ট্রেকিং বুট যোগাড় করো।

ট্রেকিং -এর সামগ্রী যোগাড় করার সময় কিন্তু ট্রেকিং বুট কে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। কারন, পা ভালো তো সব ভালো। হ্যাঁ খুব বড় ট্রেকিং হোক বা ছোট খাটো হাইকিং, হাঁটার সময় পা যদি আরামে খাকে তাহলে তো আর কথাই নেই। হাঁটতে হাঁটতে সারা পৃথিবী ট্রেকিং করে নেওয়া যাবে। কিন্তু পা যদি বিগড়ে যায় তাহলে সব গেল।

কোনটা ভালো ট্রেকিং বুট (trekking shoe)? বাছবো কিভাবে?

যখনই ট্রেকিং বা হাইকিং -এর প্ল্যান করো না কেন, এক মাস আগে থেকে একজোড়া ভালো ট্রেকিং বুট যোগাড় করো।

ভালো ট্রেকিং বুট কিন্তু খুব সস্তা হয় না। এমনকি, এটাও নয় যে একটা সব জায়গাতেই একই জুতো ব্যাবহার করা যাবে। তাই নেওয়ার সময় খুব বিবেচনা করে তবেই ট্রেকিং বুট কিনবে।

নতুন ট্রেকিং বুট (trekking shoe) কেনার সময় কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখবে  –

  1. রুট(rute) অনুযায়ী ট্রেকিং বুট
  2. লো-কাট, মিড-কাট, হাই-কাট ট্রেকিং বুট (trekking shoe) 
  3. ট্রেকিং বুটের মেটেরিয়াল(materiel)
  4. ট্রেকিং বুটের সাইজ(measurement)
  5. বুটের ফিতে ও জিভ
  6. ট্রেকিং বুটের সোল(shoe sole)

১। রুট অনুযায়ী ট্রেকিং বুট (trekking shoe)

বরফে ঢাকা রাস্তায় চলা
Photo by Pratik Gupta on Unsplash

প্রথমেই দেখে নেব কোন ধরনের রাস্তায় আমরা এই ট্রেকিং বুট পরে হাঁটবো। আমরা সাধারনত ট্রেকিং(trekking) করি পাহাড়, পর্বতে, জঙ্গলে।

সমুদ্র তট ধরে ট্রেকিং বা কোস্টাল ট্রেক খুব কম সংখ্যক মানুষই করে থাকি। তাই বেশীর ভাগ ব্যবহার হবে এমন রাস্তা বেছে নিয়েই ট্রেকিং বুট কিনব।

রাস্তার ধরন অনুযায়ী মোটামুটি চার রকমের ট্রেকিং বুট (trekking shoe)পাওয়া যায় –

  • সহজ সাধারন পাহাড়ি মেঠো পথের জন্য ট্রেকিং বুট।
  • মোটামুটি উবড়-খাবড়া পাথুরে রাস্তার জন্য মিড-কাট।
  • খুব উঁচু নিচু, পাথুরে, পার্বত্য অঞ্চলের জন্য হাই-কাট এবং
  • পর্বতারোহণের জুতো।
১.১ সহজ সাধারন পাহাড়ি মেঠো পথের জন্য ট্রেকিং বুট। (for normal hiking rute)

সারাদিনে একটা পাহাড়ি মেঠো রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ও অন্যান্য অ্যাক্টিভিটির জন্য এই ট্রেকিং বুট ব্যাবহার করা যেতে পারে। এগুলো হালকা, নমনীয় এবং খুবই আরামদায়ক ধরনের হয়।

স্পোর্টস-সু এর মত ব্যাবহার করাও হয়ে থাকে। এই ধরনের ট্রেকিং বুটে অ্যাঙ্কেল-সাপোর্ট থাকে না বললেই চলে। টিলা বিশিষ্ট পাহাড়ি রাস্তায় দৌড় ঝাপ করার জন্যও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারনত লো-কাট হাইকিং বুটগুলি এই শ্রেনিতে পড়ে।

১.২ উবড়ো-খাবড়া(rough) পাহাড়ি জঙ্গল রাস্তার জন্য ট্রেকিং বুট

পাহাড়, জঙ্গল, ঝরনা পেরিয়ে, উঁচু নিচু পাথর ডিঙিয়ে যখন কোনও এক অজানা রাস্তায় হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করলে, এই বুট যথেষ্ট। পাথুরে রাস্তায় হাঁটার জন্য মোটামুটি ধরনের অ্যাঙ্কেল-সাপোর্ট থাকে।

লো-কাট এবং হাই-কাট ট্রেকিং বুটের মাঝামাঝি অর্থাৎ মিড-কাট শ্রেনিতে বুটগুলো পড়ে। এই ট্রেকিং বুট লো-কাট বুটের থেকে তুলনামুলকভাবে ভারি ও কম আরামদায়ক হয়ে থাকে।

bloggerabi travel blog

যাতে সহজে জল না প্রবেশ করতে পারে তার জন্য ভালো চামড়া দিয়ে অথবা সিন্‌থেটিক পদার্থ দিয়ে বানানো হয়ে থাকে।

১.৩ খুব উঁচু নিচু, পাথুরে, পার্বত্য অঞ্চলের জন্য ট্রেকিং বুট

এই শ্রেনির বুট বানানো হয় মুলত পার্বত্য এলাকায় ট্রেকিং-এর জন্যই। যদি মনে হয় এটা পরে ডেসার্ট ট্রেক করবে, মরুভুমির বালির উপর দিয়ে যাবে তাহলে সেটা হবে অত্যন্ত বোকামো। খুব ভালো অ্যাঙ্কেল-সাপোর্ট থাকে যেটা পা মচকে যাওয়ার হাত থেকে অনেকটাই বাঁচিয়ে দেয়। বরফাবৃত এলাকাতেও মোটামুটিভাবে ব্যাবহার করা যায়। ওয়াটারপ্রুফও হয় অথচ হাওয়া পাশ করার ব্যাবস্থাও থাকে। সাধারন বুটের থেকে অপেক্ষাকৃত ভারি হয়। যেহেতু এর অ্যাঙ্কেল-সাপোর্ট অনেক বেশি, এটা পরে সমতলে দৌড়োদৌড়ি দূরে থাক, হাঁটাচলা করতে খানিক অসুবিধা হয়।  

 রুট অনুযায়ী ট্রেকিং বুটের প্রকারভেদ বোঝানোর ছবি
ট্রেকিং বুটের রুট অনুযায়ী প্রকারভেদ
১.৪ পর্বতারোহণের জুতো (trekking shoe for mountaineering)

এই জুতো পর্বতারোহিরাই ব্যাবহার করে থাকে। সাধারন ট্রেকিং করতে হলে এগুলোর প্রয়োজন পড়ে না বললেই চলে। খুব ভালো অ্যাঙ্কেল-সাপোর্ট সহ উন্নতমানের ফাইবারের খোলস ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। এবং এই খোলসের ভেতরেও ডবল্‌-লেয়ার করা হাই কোয়ালিটির ফেব্রিক জুতো ভরা থাকে। প্রচন্ড তুষারাবৃত পার্বতারোহনের সময় এগুলোর ব্যাবহার হয়ে থাকে।

২. ট্রেকিং বুটের(trek shoe) এই লো-কাট, হাই-কাট কি?  

জুতোর খোলা মুখের যে অংশটা পায়ের গোড়ালিকে ঢেকে রাখে সেটা হল হিল-কাউন্টার। আর  ঠিক তার ওপরে, হিল-কলারের কাটা মুখের তারতম্য অনুযায়ী তৈরি হয় বিভিন্ন রকম “কাট”।

২.১ লো-কাট(low cut) ট্রেকিং বুট
লো-কাট জুতোর উদাহরন
Photo by Eduard Delputte on Unsplash

 কোনও বুটের হিল-কলার যদি শুধুমাত্র গোড়ালি বা তার থেকে সামান্য বেশি হয় তাহলে সেইগুলো হল লো-কাট বুট। এই জুতোগুলো সাধারন খেলার জুতো এবং দৌড়ের জুতোর মধ্যে দেখা যায়।  

সুবিধা

  • হালকা(light), নমনীয়(flexible)
  • খুবই আরামদায়ক
  • খুব তাড়াতাড়ি হাঁটা যায়,
  • নরম সোলের হয় ও পা ইচ্ছেমত বাঁকানো যায়

অসুবিধা

  • অ্যাঙ্কেল-সাপোর্ট নেই
  • বেশি শক্ত হয় না, প্রোটেকশান কম
  • কাঁকর, পাথর টুকরো প্রবেশে সুবিধা
  • পায়ের তলায় আঘাতের সম্ভাবনা থাকে
২.২ মিড-কাট(mid cut) বুট

বুটের হিল-কলার গোড়ালির থেকে এক-দেড় ইঞ্চি উঁচু হয়ে পায়ের গাঁটকে ঢেকে রাখে। এই বুট গুলো সাধারনত খেলাধুলোয় ব্যবহারের জন্য নয়।

 সুবিধা

  • অ্যাঙ্কেল-সাপোর্ট(ankle support) থাকে
  • শক্ত সোলের হয়, পায়ের তলা বেশি সুরক্ষিত
  • পায়ের ব্যালেন্স ভালো হয়
  • খুব বেশি কাঁকর, পাথর টুকরো প্রবেশ করতে পারে না, জল প্রবেশ থেকে সুরক্ষা

অসুবিধা

  • শক্ত, ভারী ধরনের
  • পা ইচ্ছেমত বাঁকানো যায় না
  • খুব তাড়াতাড়ি হাঁটা সম্ভব হয়না
  • গরম এলাকায় ব্যবহারে অসুবিধে, হাওয়া পাশ করার জায়গা কম
২.৩ হাই কাট(high cut) ট্রেকিং বুট  
bloggerabi travel blog
হাই-কাট ট্রেকিং বুট (high cut trekking shoe example) Photo by Joanna Nix on Unsplash

প্রধানত ট্রেকিং এর জন্যই ব্যাবহার করা হয়। এইসব বুটের হিল-কলার অনেকটাই বেশি হয়ে থাকে। পায়ের গাঁটের থেকে তিন-চার ইঞ্চি বেশি উঁচু হয়। পিঠে ভারি রুক্‌স্যাক নিয়ে উঁচু-নিচু পাথুরে রাস্তা দিয়ে খুব ভালভাবে ব্যালেন্স করে হাঁটা যায়।

সুবিধা

  • খুব ভালো অ্যাঙ্কেল-সাপোর্ট
  • পায়ের ব্যালেন্সে খুব ভালো সাহায্য করে
  • তিন থেকে চারটে স্তরের শক্ত সোলের হয়
  • পায়ের তলা, আঙুল খুব ভালো সুরক্ষিত থাকে
  • পা মচকানোর সম্ভাবনা একদমই কম
  • জল, কাদা, কাঁকর, পাথর, বরফ সবকিছুর থেকে সুরক্ষিত থাকে

অসুবিধা

  • খুবই ভারি হয়, তাড়াতাড়ি হাঁটা সম্ভব একেবারেই সম্ভব নয়
  • পা ইচ্ছেমত বাঁকানো যায় না
  • গরম এলাকায় ব্যবহারের জন্য একদমই উপযোগী নয়
  • হাওয়া পাশ করার জায়গা খুবই কম থাকে বা নেই বললেই চলে

৩. ট্রেকিং বুটের মেটেরিয়াল

কি ধরনের যায়গায় ব্যবহার হবে তার ওপর নির্ভর করে ট্রেকিং বুট তৈরি হয়ে থাকে। খুব ভালো সুরক্ষা দেবে অথচ হালকা হবে, এই ব্যাপারটা গবেষণা করে, ট্রেকিং বুট সাধারনত তিন ধরনের পদার্থ দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে – সিনথেটিক, চামড়া, রাবার।

৩.১ সিনথেটিক

সাধারনত পলেস্টার, নাইলন, কীত্রিম চামড়া বা PU, এবং অন্যান্য ধরনের প্লাস্টিক মিশিয়ে বানানো হয়ে থাকে। হালে গোর-টেক্স এর বুট পাওয়া যায় যেটা নমনীয় অথচ ওয়াটারপ্রুফ হয়। সিনথেটিক খুব হালকা ও নমনীয় হয় এবং তাড়াতাড়ি শুকিয়েও যায়। কিন্তু সিনথেটিক জল শুসে নেয় যার ফলে ওয়াটারপ্রুফ হয়না। সিনথেটিকের ওপরে কোনও পাতলা কিত্রিম চামড়ার আবরন দিয়ে ওয়াতারপ্রুফ করা হয়।

৩.২ লেদার

শক্ত ও ভারি ধরনের হওয়ার জন্য যেকোনো রুক্ষ, অসমতল জায়গায় অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। খুব ভালো ওয়াটারপ্রুফ হয় কিন্তু হাওয়া পাশ কম হয়। ট্রেকিং বুটের মধ্যে যত মোটা চামড়া ব্যবহার করা হয় বুট তত শক্ত হয়। এটা তোমার ওপর নির্ভর করবে খুব শক্ত লেদারের ট্রেকিং বুট ব্যবহার করবে না নমনীয় বুট ব্যবহার করবে। মনে রেখো, যত শক্ত লেদার তত বেশি সুরক্ষা ও টেকসই এবং নরম লেদার মানে টেকসই ও সুরক্ষা কম, কিন্তু নমনীয়তা বেশি।

৩.৩ স্প্লিট্‌-গ্রেন লেদার অথবা সিনথেটিক মিক্স লেদার

অনেক কোম্পানি আছে যারা লেদার ও সিনথেটিক একসাথে ব্যবহার করে ট্রেকিং বুট তৈরি করে। এতে করে বুট হালকা, নমনীয় ও অয়াটারপ্রুফ হয়। অথচ বুটের ভেতরে হাওয়া পাশ করার ব্যবস্থা সম্ভব হয়। তবে খুব ভালো টেকসই হয় না।

৩.৪ গোর-টেক্স
bloggerabi travel blog
Photo by Rostyslav Savchyn on Unsplash

গোর-টেক্স একধরনের আবরনি পর্দা যাতিও পদার্থ, যেটা জল আটকায় অথচ কাপড়ের ভেতরের বাস্প বাইরে বেরতে সাহায্য করে। এটা সম্প্রসারিত পলিটেট্রাফ্লুরোথিলিন ফাইবার বা টেফ্লোন নামক পদার্থ দিয়ে তৈরি। এই পদার্থ সব কোম্পানি ব্যবহার করেনা এবং এর দাম অনেক বেশি হয়।

৪. ট্রেকিং বুটের সোল(shoe sole) 

যতই দামি ট্রেকিং বুট কেন না কেন। বুটের সোল দেখে নেওয়া কিন্তু খুবি দরকারি। জুতোর সোল পায়ে যেমন অতিরিক্ত সুরক্ষা কবচ তৈর‍ি করে তেমন আরামও দেয়।

ট্রেকিং বুটের সোল তিনটে লেয়ারে বানানো হয়ে থাকে- ইনসোল, মিডসোল ও সবথেকে নিচে রাবার সোল।

শুধু ট্রেকিং ই না, যেকোনো জুতো কিনতে জুতোর ভিতরের সোলের দিকটা দেখতে হয় । অর্থাৎ, ভিতরে যেখানে তুমি পা রাখছো সেটার সেপ(Shape), তোমার পায়ের তলার সেপের সঙ্গে ম্যাচ করছে কিনা। বিশেষত পায়ের টো(toe) এবং গোড়ালির মাঝের সামান্য ঢালু অংশটির গ্যাপ যেন কভার করে ঠিক মতো সে দিকে খেয়াল করতে হয়। – suggested by my fb friend @alkaline C

  • ইনসোল(insole) যেটা জুতোর ভেতরে পায়ের তলায় নরম প্যাডিং থাকে। পায়ের তলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা তৈরি করে।
  • মিডসোল(midsole) থাকে ইনসোল ও আর্ক-সাপোর্টের নিচে। ট্রেকিং বুট সাধারনত TPU বা থার্মোপ্লাটিক পলিইউরিথেন দিয়ে তৈরি, মোটা অথচ হালকা বস্তু। ওয়াটারপ্রুফ, হালকা এবং নমনিয় এই তিনটে গুন থাকে।  
  • সবার নিচে থাকে রাবার সোল। ট্রেকিং বুট নেওয়ায় সময় অবশ্যই দেখে নেবে ভালো রাবার কিনা। জুতো পরলেই বুঝতে পেরে যাবে। ভালো রাবার কখনও স্লিপারি হয় না। শক্ত জায়গায় ভালো ভাবে আটকে যায়। স্লিপারি মেঝেতেও আটকে বসে যায়।

রাবার চেনার আর এক রকম উপায় হল এর আওয়াজ। রাবার কখনও শক্ত প্লাস্টিকের মতো ঠক্‌ঠক্‌ আওয়াজ করেনা। বরং ট্রেকিং বুট পরে হাঁটার সময় দেখবে চাপা ঢপঢপ ধরনের আওয়াজ হয়।  

যারা অনলাইনে ট্রেকিং বুট কিনবে ভাবছ তারা কিন্তু অবশ্যই অতিরিক্ত ইনসোল কিনে রাখবে। বেশীর ভাগ সময় বুটের সাথে এক্সট্রা ইনসোল দেয়না। আলাদা করে কিনে নিতে হয়।

৫. বুটের সাইজ (trekking shoe measurement chart)

সত্যি বলতে আমি আগে জানতামই না, যে জুতোর সাইজ আবার ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও আমেরিকা অনুযায়ী আলাদা আলাদা হয়। মাথাটা তো গুলিয়ে গেল ট্রেকিং বুট কিনতে গিয়ে।

জুতোর গায়ে বিভিন্ন রকম লেখা UK, US, EU এইসব। ভাগ্যিস জুতো দোকানে মাপার যন্ত্র(measurement scale) ছিল। তাই তোমাদের যাতে অসুবিধা না হয় এখানে সাইজের চার্ট টা দিয়ে দিলাম।

জুতো কেনার সময় পায়ের মাপ নেওয়ার চার্ট
পায়ের মাপে জুতো কেনার সাইজ চার্ট

চার্ট টা দেখে নিলে? এবার ইঞ্চি-টেপ দিয়ে ঘরেই মেপে নিতে পারবে।  

৬. বুটের ফিতে ও জিভ

বিশ্বাস করো আর নাই করো যেকোনো জুতোর ফিটিংস কিন্তু তার ফিতে বাঁধার ওপরেও কিছুটা নির্ভর করে।

ট্রেকিং বুটের ফিতে বাঁধার ছবি
ট্রেকিং বুটের ফিতে(laces)
Photo by Nathan Dumlao on Unsplash

বিশেষ করে ট্রেকিং বুটের ফিতে(lace) বাঁধার পর অতিরিক্ত বেরিয়ে থাকা ফিতে ঠিকঠাক করে সামলে রাখা অবশ্য জরুরি। নাহলে হাঁটতে গিয়ে বারবার জুতোর ফিতে সামলাতে হবে। বেরিয়ে থাকা ফিতের ওপর পা জড়িয়ে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

ট্রেকিং বুট কেনার সময় অবশ্যই দেখে নেবে ফিতে বা লেস যেটাকে বলে সেটা যেন একটু খসখসে ধরনের হয়। খুব স্লিপারি নাইলন ফিতে খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

সাধারনত ট্রেকিং বুটের জিভ, ফিতের নিচে যেটা পা ঢাকার জন্য থাকে, বুটের কলার পর্যন্ত লাগোয়া থাকে। সাধারন বুট-জুতোর মতো ছাড়া অবস্থায় থাকে না।

যদি কোনও ট্রেকিং বুটের জিভ ছাড়া অবস্থায় থাকে তাহলে সেটা না নেওয়াই ভালো। কারন ওই ছাড়া অংশের ফাঁক থেকে ধুলোবালি জল, কাদা ঢুকে যেতে পারে।  

ট্রেকিং বুট(trekking shoe) সম্বন্ধে কিছু বোনাস টিপস্‌

১. ট্রেকে যাওয়ার আগে পায়ের সাথে টেকিং বুটের বন্ধুত্ব –   

হ্যাঁ এটা খুব দরকার, আগে পরে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করলে পরে আসল ট্রেকিং-এ গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হয় না। নতুন বুট পরে ট্রেকিং-এর সময় ফোস্কা(blister) পড়ার সমস্যা এড়ানো যায়। আর বুটটা পায়ের সাথে ভালোভাবে সেট হয়ে যায়।                   

আর সত্যি বলতে নতুন ট্রেকিং বুট কবে পরব আমি দেরি করতে পারিনা। পরে হাঁটতে ভালো লাগে বেশ আরাম অনুভুতি হয়।

আমি তো বলব, তোমরা ট্রেকে যাওয়ার পনেরো দিন আগে থেকে মাঝে মধ্যেই জুতোটা পরে হাঁটো। যদি জুতোর কোনও আসুবিধা হয় বদলানোর সুযোগ পাবে।  

২. চেষ্টা করো হালকা ট্রেকিং বুট(trekking shoe) নেওয়ার

পিঠে এদিকে ২০ কেজি তার ওপর পায়ে যদি ৫ কেজি থাকে তাহলে তো শুরুতেই ট্রেকিং শেষ। তাই বলছি, যতটা পারো হালকা জুতো নেওয়ার চেষ্টা করো। খুব মোটা চামড়ার জুতো নিতে যেওনা। কারন চামড়া যেমন জল আটকায় তেমন খারাপও হয়ে যায় তাড়াতাড়ি।  

সিনথেটিক মেশান সুতো দিয়ে তৈরি জল ঢোকার সম্ভাবনা কম অথচ হাওয়া পাশ করবে এরকম জুতো নেওয়ার চেষ্টা করো।

ভালো জুতো একটু দেখেশুনে নিলে, হতে পারে সেটা অনেক দামি, কিন্তু অনেকদিন এবং অনেকবার ব্যাবহার করা যায়।

আমার নিজের কেনা ট্রেকিং বুট এই চার বছর হয়ে গেল।

৩. ট্রেকিং বুটের সাথেই মোজা(trekking socks) কিনে নাও

ট্রেকিং বুট কেনার সময়েই একই সাথে নিজের পায়ের মাপের মোজা কিনে নেওয়া দরকার। মোজা পরে নিয়ে জুতো পরীক্ষা করলে ট্রেকিং বুট ভালভাবে বাছাই করা সম্ভব হয়।  আর ট্রেকিং মোজা সাধারনত উৎকৃষ্টমানের সুতো দিয়ে তৈরি হয়।

আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। দু’জোড়া ট্রেকিং মোজা নিয়েছিলাম বুটের সাথে। সেটা আমি দু’বছর অন্য জুতোর সাথে প্রতিদিন ব্যবহার করেছি এবং দুটো ট্রেক করেছিলাম। অথচ  পায়ে একটুও অসুবিধা হতে দেয়নি।

৬ রকমের টিপস দেখে নিয়েছ। নিশ্চই ট্রেকিং জুতো কিনতে আর অসুবিধা হবে না। মনে রাখবে ট্রেকিং বুট কিন্তু খুব কম দামি হয় না। কম দামের চক্কোরে পড়ে যা তা বুট নিয়ে ফেলো না। দেখে শুনে বুট কিনলে বেশ কয়েক বছর টিকে যাবে। ব্লগটা কেমন লাগ্ল কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানিও। অসংখ্য ধন্যবাদ @Alkaline C সাজেসানের জন্য। যদি কোনও প্রশ্ন বা সাজেসান থাকে কমেন্ট বক্সে জানিও। ভালো করে ট্রেক করো। ধন্যবাদ।