ট্রেকিং –এর সময় ওয়াকিং স্টিক বা ট্রেকিং পোল ব্যবহার করা কি খুব প্রয়োজন?(8 reason why you should use an waking stick in trek!)

ওয়াকিং স্টিক না থাকলে, শুধুমাত্র পায়ের ব্যাল্যান্সের ওপর ভরসা করে, ভারি রুকস্যাক নিয়ে উঠতে হয়। খুব ভালো পায়ের স্ট্রেন্থ ও ব্যালেন্স না থাকলে সেই মুহূর্তে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। তাই কোনও কোনও সময়ে ওয়াকিং-স্টিকের দরকার হতে পারে।

ট্রেকিং-এ গেলে অনেকের হাতেই আধুনিক ওয়াকিং স্টিক(walking stick) বা ট্রেকিং পোল(trekking pole) ব্যবহার করতে দেখা যায়। ট্রেকিং-রুটে অনেক সময় খুব খাড়াই পথে ওঠানামা করতে হয়। সেইসময় সাথে ওয়াকিং স্টিক না থাকলে, শুধুমাত্র পায়ের ব্যাল্যান্সের ওপর ভরসা করে, ভারি রুকস্যাক নিয়ে উঠতে হয়। খুব ভালো পায়ের স্ট্রেন্থ ও ব্যালেন্স না থাকলে সেই মুহূর্তে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। তাই কোনও কোনও সময়ে ওয়াকিং-স্টিকের দরকার হতে পারে। 

বরফের এলাকায় ওয়াকিং-স্টিক বা ট্রেকিং-পোল ব্যবহার
Photo by Fabrizio Conti on Unsplash

ট্রেকিং-এ (walking stick)ওয়াকিং স্টিকের সত্যি কি খুব প্রয়োজন?

এটা নির্ভর করে, যে ট্রেক করছে তার শারীরিক ক্ষমতা (physical strength) এবং পায়ের ব্যাল্যান্স (balance) কতটা ভালো সেটার ওপরে। অনেকের মনে হতেই পারে, ওয়াকিং-স্টিক বুড়ো মানুষে ব্যবহার করে, আমি কি বুড়ো!

পাহাড়ে বিশেষ করে হাই-অল্টিচুড (high altitude) এলাকায় কেউই বলতে পারে না, কে কখন বুড়ো হয়ে পড়বে। তাই প্রকৃতিকে কখনও অবহেলা(taken for granted) না করাই ভালো। 

কোথাও একটা শুনেছিলাম, মনে নেই

লাদাখে(ladakh) স্টোক-লা(stok-la) পার হওয়ার সময় যেমনটা আমার সাথে হয়েছিল।
পিঠে যে খুব ভারি ওজন ছিল তা নয়, ৯- ১০ কেজি এর মতো হবে। রাস্তা ছিল খুব চড়াই, কাছে তখন কোনরকম ওয়াকিং-স্টিক ছিল না। কারন আমার ওয়াকিং-স্টিক ব্যবহার করতে ভালো লাগত না। পায়ের ব্যালেন্স করে ওঠে তো যাচ্ছিলাম। কিন্তু মাঝেমধ্যেই পিঠের ব্যাগ যেন পেছনে খাদের দিকে টানছিল। সেই সময় মনে হয়েছিল ট্রেকিং পোল বা কোনও শক্ত লম্বা লাঠি (wooden staff) থাকলে ভালো হতো। সে যাত্রায় নিজেকে সামলে নিয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু পরে ওয়াকিং স্টিকের কথা খুব মনে হয়েছিল।

ওয়াকিং-স্টিক বা ট্রেকিং-পোল(trekking pole) ঠিক সিনেমার একজন সাপোর্টিং ক্যারেক্টারের(supporting character) মতো কাজ করে। কোনও কোনও ট্রেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় আবার কোনও ট্রেকে লাগেই না।

যদি তুমি এমন একজন হয়ে থাকো যে সবে প্রথম ট্রেকিং(trekking) শুরু করেছে। তাহলে তোমার ট্রেকিং-পোলের এখনই প্রয়োজন নেই। প্রথমে একটা-দুটো ট্রেক করো। তারপর প্রয়োজন বুঝে একটা ভালো দেখে ট্রেকিং-পোল কিনতে পারো।  

ব্যাতিক্রম, যদি কেউ প্রয়োজনীয় সাধারন ফিটনেস্‌ অর্জন না করেই, না জেনে বুঝে দুম করে ট্রেকে চলে যায় তার ক্ষেত্রে আলাদা।

যখন আমরা কোনোও ওয়াকিং স্টিক ছাড়া ট্রেক করি, হাঁটার জন্য শুধুমাত্র পায়ের পেশি ব্যবহার হয় এবং পুরো ব্যালেন্স পায়ের ওপরে নির্ভর করে। ট্রেকিং-এর সময় যেকোনও ওয়াকিং-স্টিক (ট্রেকিং-পোল বা লাঠি) ব্যবহার করলে অনেকক্ষণ হাঁটার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

ওয়াকিং স্টিক না ট্রেকিং পোল না লাঠি? (walking stick or trekking pole or wooden staff?)

তিনটে প্রায় একই জিনিস। আসলে, যেকোনো রকমের লম্বা দন্ড যেটা ভর করে হাঁটা যায় সেটাই ওয়াকিং-স্টিক। আর যেসব ওয়াকিং-স্টিক শুধুমাত্র ট্রেকিং বা হাইকিং এর জন্য স্পেশ্যালভাবে বানানো হয়ে থাকে সেগুলোকে ট্রেকিং-পোল বলে। আগে তো সবাই হাঁটার সময় লাঠিই ব্যবহার করতো। জংরি ট্রেকে নামার সময় তো আমি এমনি লাঠিই ব্যবহার করেছি।

girl using wooden staff as walking stick in downhill trekking
Photo-by-Galen-Crout-on-Unsplash

তবে ব্যাপারটা হল, ওয়াকিং-স্টিক বা ট্রেকিং-পোল ব্যবহারে অনেক বেশি সুবিধে। কারন ইচ্ছেমতো ছোট বা বড় করা যায়। দরকার না পড়লে ছোট করে রুকস্যাকের মধ্যে আটকে নেওয়া যায়।

ওয়াকিং স্টিক বা ট্রেকিং পোলের কয়েকটা ব্যবহারিক সুবিধে

  •  ট্রেকিং এর সময় শুধুমাত্র পায়ের পরিবর্তে ওয়াকিং-স্টিকের সাহায্য নিলে হাতের সাপোর্ট পাওয়া যায়। ফলে, ভারি রুকস্যাক নিয়ে, তাড়াতাড়ি ক্লান্ত না হয়েও অনেকক্ষন হাঁটা যায়।
  • পায়ের হাঁটু, গোড়ালি ব্যাথা হলে সাপোর্ট নেওয়া যায়। খাড়াই জায়গায় ওঠার সময় ট্রেকিং-পোলে ভর দিলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সুবিধে হয়।
  • ডাউনহিল মানে পাহাড় থেকে নিচের দিকে নামার সময় ট্রেকিং-পোলের সাহায্যে তাড়াতাড়ি নামা যায়। অথচ হাঁটুর ওপর চাপ অনেক কম পড়ে।
  • হাঁটার সময় ওয়াকিং-স্টিক ব্যাবহার করলে একই তালে হাঁটার অভ্যাস রপ্ত হয়। যেটা  হাঁটার স্পীড বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
  • বরফ, উঁচু নিচু রাস্তা বা কোনও হড়কানো (slippery) জায়গায় হাঁটার সময়, শুধুমাত্র দুটো পায়ের পরিবর্তে ট্রেকিং-পোল সহ চার হাত-পা ব্যবহার করলে অনেক বেশি ব্যালেন্স করে হাঁটা যায়।  
  • বরফের ব্রিজ (snow bridge) অথবা কোনও জলের স্রোত (stream) পার হওয়ার সময় ওয়াকিং-স্টিক দিয়ে প্রবিং(probbing) -এর কাজ করতে পারা যায়।
  • এমারজেন্সিতে টেন্টের পোল হিসেবেও কাজে লাগানো যায়। ওয়াকিং-স্টিকের সাথে প্লাস্টিক সিট ব্যবহার করে এমারজেন্সি তাঁবু বানানো যেতে পারা যায়।
  • বন্যপ্রানির হাত থেকে রক্ষার কাজেও ব্যবহার করা যায়। ওয়াকিং-স্টিক পাথরে ঠুকে আওয়াজ করে অন্য ট্রেকার বা কোনও প্রানিদের নিজের অস্তিত্য জানানো যায়।

ভালো ট্রেকিং পোল বা ওয়াকিং-স্টিক বাছার উপায় কি?

ট্রেকিং-পোল কেনার সময় স্টিকের ওপর নিজের শরির হেলিয়ে ভর দিয়ে দেখে নাও। কিছু কোম্পানি ওয়াকিং-স্টিকের নাম করে মেটালের তৈরি পাঁকাটি বিক্রি করে দেয়।

সত্যি বলছি আমি একবার ট্রেকিং-পোল কিনতে গিয়ে বিচিত্র স্টিক দেখেছিলাম। হাতে নিয়ে দেখলাম খুব সুন্দর হালকা। তো যথারীতি আমি স্টিক খুলে নিচে ঠেকিয়ে শুধুমাত হাতের চাপ (pressure) দিতেই সেটা নিজের পা-ফা কাঁপিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। ভয়ে তাড়াতাড়ি রেখে দিলাম। লাইট-ওয়েট ওয়াকিং-স্টিক না ছাই।

তাই বলছি নেওয়ার সময় অবশ্যই দেখেশুনে বুঝে নিও। ট্রেকিং পোল নেওয়ার সময় কি কি দেখে নিতে হবে নিচে লিখলাম –

১. ট্রেকিং পোলের মেটেরিয়াল

বেশীরভাগ স্টিক তৈরি হয় অ্যালুমিনিয়াম(aluminium) অথবা কার্বন ফাইবার(carbon fiber) দিয়ে। অ্যালুমিনিয়ামের মধ্যে বেঁকে যাওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে কিন্তু কম দামে পাওয়া যায়। অন্যদিকে কার্বন ফাইবার হালকা হয় এবং কাঁপুনি সহ্য (vibration resistance) করে। কিন্তু খুব বেশি চাপ পড়লে বেঁকে না গিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২. হাতল

ওয়াকিং স্টিকের হাতল সাধারনত তিন রকমের মেটেরিয়াল দিয়ে বানানো হয় যথা- কর্ক(cork), ফোম(foam) এবং রাবার(rubber)।

কর্কের তৈরি হাতল হাতের ঘাম শ্বসন করে হাত শুকন রাখতে সাহায্য করে। ব্যবহার করতে করতে ধিরে ধিরে ভাঁজ হয়ে নিজের হাতের সেপ নিয়ে নেয়। ট্রেকিং –এ ওয়াকিং-স্টিক মাটিতে ঠুকে চলার সময় কম্পন প্রতিরধ করতেও সাহায্য করে।

diagram of trekking pole
ট্রেকিং পোলের কোনটা কি!

ফোমের তৈরি হাতলও আর্দ্রতা শুশে নিতে সাহায্য করে। কিন্তু বেশি ঘাম বসে গিয়ে হাতলের ভেতর থেকে ভ্যাপসা গন্ধ বেরতে থাকে।

তিন নম্বরে রাবার হাতল যেটা খুব ভালো ঠান্ডা প্রতিরোধক। যদি তোমার বেশীরভাগ ট্রেক ঠাণ্ডা এলাকায় হয়ে থাকে তাহলে বলব রাবার হাতল সবথকে ভালো।  কিন্তু গরমে রাবার হাতল একদম ব্যবহার করা উচিত নয়। হাতে রাবারের ঘষা খেয়ে ফোস্কা পড়ার সম্ভবনা থাকে।

৩. ওয়াকিং স্টিকের ফিতে

কিছু ওয়াকিং-স্টিকের হাতলের মধ্যে ফিতে আটকানো থাকে যেটা হাতের কব্জিতে গলিয়ে নেওয়া যায়। এতে ওয়াকিং-স্টিক হাতের সাথে আটকে রাখতে অথবা ব্যাগে আটকে নিতে অতিরিক্ত সুবিধে দেয়।

৪. লকিং সিস্টেম(Locking System)

ওয়াকিং-স্টিক যে মেটাল পাইপ গুলো দিয়ে তৈরি হয়। এগুলোকে একে অপরের ভেতরে চেপে ঢুকিয়ে ছোট এবং টেনে বড় করা যায়।

এই ছোট অথবা বড় করার পর লক আটকে দেওয়া হয় যাতে করে খুলে গিয়ে অবস্থার পরিবর্তন না হয়। এই লকিং-মেকানিজম্‌ কয়েকরকমের হয়ে থাকে –

প্যাঁচানো লক, বোতাম লক, এক্সটারনাল ল্যাচ্‌/ লিভার/ ক্ল্যাম্প, প্যাঁচানো এবং লিভার দুটো মিলিয়ে ইত্যাদি।

কোন লক ব্যবহারে সুবিধে হচ্ছে ওয়াকিং-স্টিক কেনার সময় দেখে নেওয়া ভালো।

৫. ট্রেকিং পোলের বাস্কেট(busket)  

ট্রেকিং-পোলের আগায় গোলাকৃতি(round) এক ধরনের চাকা থাকে যেটাকে বাস্কেট বলে। তুষার, বালি অথবা কাদার ওপরে ওয়াকিং-স্টিক গাঁথতে গেলে অনেকসময় সম্পূর্ণ স্টিক ভেতরে চলে যায়। কিন্তু এই চাকা থাকলে সেটা অনেক ক্ষেত্রেই আটকে দেয়।

এই চাকা দুই তিনটে অতিরিক্ত কিনে রাখা ভালো। কারন প্রায়শই এগুলো ধাক্কা লেগে ভেঙ্গে অথবা খুলে হারিয়ে যায়।

৬. ট্রেকিং পোলের ডগা(tip of trekking pole) 

ট্রেকিং-পোলের আগার ছুঁচালো অংশ। হালকা ও টেকসই করার জন্য সাধারনত কারবাইড(carbide) টাংস্টেন(tangsten) দিয়ে তৈরি হয়ে।

অনেক ওয়াকিং-স্টিকের এই টিপের মাথাতে রাবারের টুপি দিয়ে কভার করা থাকে। এতে করে পাথর বা সিমেন্টের মতো শক্ত জায়গায় ওয়াকিং-স্টিকের টিপ হড়কে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচে এবং টিপটি ভাঙ্গার হাত থেকেও রক্ষা পায়।

৭. সক অ্যাবজর্বশান স্প্রিং (Sock Absorption Spring)

ভালো ওয়াকিং-স্টিকের ঠিক মাঝের দিকে পোলের ভেতরে এক ধরনের সক্‌-অ্যাবজর্বশান স্প্রিং থাকে। এটা ওয়াকিং-স্টিক শক্ত জায়গায় ধাক্কা খেয়ে হাতে ঝটকা লাগার থেকে বাঁচায় এবং ট্রেকিং-এর সময় যাদের হাঁটু একটুতেই ব্যথা হয়ে যায় তাদের জন্য এই প্রযুক্তি খুব লাভজনক। হাঁটার সময় স্টিকের ওপরে ভর দিয়ে ধিরে পা ফেলতে সাহায্য করে এই স্প্রিং।

ট্রেকিং-পোল(trekking pole) বা ওয়াকিং-স্টিকের কিছু অসুবিধে

সুবিধে থাকবে অথচ অসুবিধে থাকবেনা এরকম তো হয় না। তাই ওয়াকিং-স্টিক ব্যবহারে যেসব অসুবিধে আছে সেগুলোও এখানে উল্লেখ করলাম –
  • ওয়াকিং-স্টিক(walking stick) নিলে একটা অতিরিক্ত ওজন ক্যারি করতে হয়। ট্রেকিং-এর সময় সামান্য ১০ গ্রাম বেশিও অনেক বেশি মনে হয়। হাতের কব্জি ব্যাথাও হতে পারে।
  • কোনও কোনও ক্ষেত্রে ট্রেকিং-পোল ব্যবহার করা যায় না। নিজের দুই হাত ব্যবহার করতে হয় তখন ওই ট্রেকিং-পোল সামান্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
  • অতিরিক্ত ওয়াকিং-স্টিক ব্যবহারের ফলে সামান্য পা ফেলে এগিয়ে যাওয়ার অভ্যাসও খারাপ হয়ে যেতে পারে। এরকমও হয়, নিজের পায়ের ওপর ভর দেওয়ার শুধু জায়গা আছে, অথচ ওয়াকিং-স্টিক ঠেকিয়ে চলার অভ্যাসে, ভুল করে, স্টিক নিয়ে জলের ওপর চাপ দিতে গেলে, ব্যাস, গেলে উল্টে।
  • হাতে ওয়াকিং-স্টিক থাকলে অনেকরকমের বদভ্যাস দেখা দিতে পারে যেমন পাথরের গায়ে যখন তখন আওয়াজ করা, গাছের গায়ে মারা, বন্যপ্রানি দেখে ইচ্ছে করে তাদের অপদস্ত করা ইত্যাদি ইত্যাদি।
how to wear waking stick straps
কীভাবে ওয়াকিং স্টিকের ফিতে পরবে
ট্রেকিং-পোল(trekking pole) সম্বন্ধে কিছু প্রয়োজনীয় টিপস্‌ (tips)

ট্রেকিং পোলের স্টাইল, ডিজাইন, লকিং সিস্টেম হেনা-তেনা যাই হোক। ব্যবহারে যেটা সবথেকে সুবিধে এবং নিজের উচ্চতা অনুযায়ী স্টিক ছটো এবং বড় করা যায় সেইরকম ট্রেকিং পোল নেওয়াই ভালো।

হাত মোজা (hand gloves) হাতে পরে ট্রেকিং-পোল ব্যবহার করার সময় সামান্য অসুবিধা হয়। সেটা অভ্যাসের ফলে নিজের মতো রপ্ত করে নেওয়া যায়।

কার্বন-ফাইবারের(carbon fiber) বদলে অ্যালুমিনিয়ামের (Aluminium) স্টিক ব্যবহার করাই ভালো। বেঁকে গেলেও ভেঙ্গে তো যাবে না। বিশেষ করে যারা ওয়াকিং-স্টিকের ওপরে ঝুঁকে একটু ঘুমিয়ে নিতে ভালবাসে।

স্প্রিং-সিস্টেম (spring system) ট্রেকিং পোল নেওয়াই ভালো। নিচে নামার সময় হাঁটুতে সরাসরি ধাক্কা খাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

আবারও বলছি যারা সবে প্রথম প্রথম ট্রেকিং শুরু করেছ তাদের ট্রেকিং-পোল না কিনলেও চলে। দেখেশুনে খুব প্রয়োজন পড়লে, পরবর্তীকালে ভালো ট্রেকিং-পোল কিনতে পারো।

মাউন্টেনিয়াররা(Mountaineer) ট্রেকিং পোলের বদলে বেশীরভাগ সময় আইস-এক্স(ice-Axe) ব্যবহার করে থাকে। তাই যারা মাউন্টেনিয়ার হতে চাও তারা ট্রেকিং পোলের টাকা বাঁচিয়ে আইস-এক্স নেওয়ার চেষ্টা করো।

তাহলে, বুঝে গেলে ট্রেকিং পোল(trekking pole) বা ওয়াকিং স্টিকের সুবিধা এবং অসুবিধা কি কি হতে পারে। ব্লগটা ভালো লাখলে অবশ্যই শেয়ার করো। কোনরকম প্রশ্ন বা উক্তি থাকলে কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাতে ভুলো না। ধন্যবাদ।