ডাউন জ্যাকেট বাছব কীভাবে? how to choose a right Feather Jacket!

প্রচন্ড হাড় হিম করা ঠাণ্ডা, এদিকে দেখলাম যে ফেদার জ্যাকেট (feather jacket) নিয়েছিলাম সেটা দিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না। ব্যাস ট্রেকের দফারফা। এইরকম শোচনীয় অবস্থায় যাতে না পড়তে হয়। জ্যাকেট নেওয়ার আগে চট করে আমার এই ব্লগটা পড়ে ফেলো।

প্রচন্ড হাড় হিম করা ঠাণ্ডা, এদিকে দেখলাম যে ফেদার জ্যাকেট (feather jacket) নিয়েছিলাম সেটা দিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না। ব্যাস ট্রেকের দফারফা।

এইরকম শোচনীয় অবস্থায় যাতে না পড়তে হয়। জ্যাকেট নেওয়ার আগে চট করে আমার এই ব্লগটা পড়ে ফেলো।

কোন কোন বিষয় বলব –

  1. জ্যাকেট (hollofil jacket) কত রকমের হয়
  2. তাহলে এই হলোফিল জ্যাকেট (hollofill jacket) মানে কি?
  3. হলোফিল্‌ (Hollofil) এবং ডাউন জ্যাকেটের পার্থক্য
  4. জ্যাকেট ফিল পাওয়ার কি?
  5. জ্যাকেটের সেলাই
  6. অন্যান্য

জ্যাকেট (Hollofil Jacket) কত রকমের?

ট্রেক-এ সাধারনত দুই রকমের জ্যাকেট ব্যবহার হয়ে থাকে।

  1. সিনথেটিক (Synthetic) হলোফিল জ্যাকেট
  2. ডাউন (Duck Down) ফেদার জ্যাকেট 

1. হলোফিল্‌ সিনথেটিক(synthetic) অথবা ডাউন জ্যাকেট

উইন্টার ট্রেকের সবথেকে উপযোগি শীতের পোশাক হল এই হলফিল বা ডাউন জ্যাকেট। ট্রেক, হাইকিং অথবা কোনও এক্সপেডিশান সব জায়গাতেই এই জ্যাকেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

2. তাহলে এই হলোফিল জ্যাকেট (hollofill jacket) মানে কি?

 যেকোনোও ধরনের প্যাডেড(padded) জ্যাকেটই হল হলোফিল্‌ জ্যাকেট। এবারে জ্যাকেটের “হলো” অর্থাৎ “ফাঁকা জায়গা” কোন মেটেরিয়াল দিয়ে ভরা সেটা অনুযায়ী তার নাম আলাদা হয়।

যদি সিনথেটিক দিয়ে ভরা থাকে তাহলে হলোফিল সিনথেটিক। আর যদি ফেদার অর্থাৎ পালক দিয়ে ভরা থাকে ফেদার জ্যাকেট অথবা অথবা ডাউন জ্যাকেট বলা হয়ে থাকে।

3. হলোফিল্‌ (Hollofil) এবং ডাউন জ্যাকেটের পার্থক্য

a. হলোফিল্‌ সিনথেটিক (Synthetic Hollofill)

জ্যাকেটের কাপড়ের ভেতরে সিনথেটিক তুলো ভোরে এটা বানানো হয়। তুলোর ভেতরের ফাঁকা অংশে শরীরের গরম ধরে রাখে। সিনথেটিক তুলো(Synthetic Cotton)  স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়াতে ভালো কাজ দেয়। ভিজে গেলেও খুব বেশি চুপসে যায় না এবং তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

তবে সিনথেটিক তুলো (Synthetick Cotton) পালকের (Feather) থেকে অপেক্ষাকৃত ভারি ধরনের হয়। পালকের মতো খুব বেশি চুপসে যায় না ফলে বেশি জায়গা নেয়।

b. ফেদার বা ডাউন জ্যাকেট (Down Jacket)

ফেদার জ্যাকেটে তৈরি হয় ফেদার অর্থাৎ পালক দিয়ে। তোমাদের নিশ্চয়ই মনে হবে কিসের পালক?

আমি আগে ভাবতাম হয়তো যেকোনো পালক কুচিকুচি করে কেটে কাপড়ের ভেতর ভোরে সেলাই করে দেয়।

কিন্তু ফেদার জ্যাকেটে “ডাক ডাউন” অর্থাৎ হাসের পাখনার বড় বড় পালকের তলায় যে ছোট ছোট তুলোর মতো পালক থাকে, সেই পালক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই পালক গুলো খুবই নরম এবং প্রচুর পরিমানে গরম হাওয়া ধরে রাখতে পারে।

এই ডাক ডাউন জ্যাকেট হাল্কা (lite), ফোল্ডিং(folding) করে রাখারা সময় খুবই কম জায়গা নেয়।

তবে বৃষ্টিতে ভিজে গেলে পালক চুপসে যায়। যেটা শুকনো হতেও যথেষ্ট সময় নেয়।

4. জ্যাকেট ফিল পাওয়ার কি?

জ্যাকেটের ভেতরে পালক ভর্তি ফোলা ভাব এবং কাপড়ের কোয়ালিটি দিয়েই জ্যাকেটের ফিল পাওয়ার হিসেব করা হয়ে থাকে। ফিল পাওয়ার বেশি মানে সেই জ্যাকেটে এয়ার প্যাকেট ও কাপড়ের কোয়ালিটিও অনেক বেশি এবং জ্যাকেট তুলনামূলক ভারি।

ডাউন জাকেটের ফিল পাওয়ার রেটিং

ফিল পাওয়ার (fill power) রেটিং (rating)
৪০০ – ৪৫০ মিডিয়াম (Medium)
৫০০ – ৫৫০ গুড (Good)
৫৫০- ৭৫০ ভেরি গুড (Very Good)
৭৫০-৯০০ এক্সসেলেন্ট (Excelent)
   

ল্যাবরেটরিতে ফিল পাওয়ার মাপা হয় “কিউবিক ইঞ্চি পার আউন্স (Cubic per Inch)” হিসেবে।

ফিল পাওয়ার মাপার জন্য একটা কাঁচের সিলিন্ডারের (glass cylinder) ভেতরে এক আউন্স ডাউন-পালক ঢুকিয়ে তার ওপর ভারি কিছু ওজন চাপিয়ে দেওয়া হয়।

সিলিন্ডারের ভেতরের ডাউন-পালক নিজের ফোলা ভাবের জন্য ওপরের ওজনটিকে যতটা ঠেলে বের করে রাখে, সেটারই হিসেব করে ডাউন-পালকের ফিল পাওয়ার মাপা হয়ে থাকে।  

যে ডাউন জ্যাকেট যত বেশি হাল্কা এবং ফোলা (fluffy) অথচ চেপে অনেক ছোট করে প্যাকিং করে নেওয়া যায়। সেই জ্যাকেটের কোয়ালিটি তত ভাল।

জ্যাকেটের সেলাইয়ের ওপর কিন্তু জ্যাকেটের কোয়ালিটি নির্ভর করে। সাধারনত দুই রকমের সেলাই হয়ে থাকে –

  • সিঁউ থ্রু (Sewn Through)
  • বক্স বাফেল (Box Buffel)

১)সিঁউ থ্রু (Sewn Through)–

সাধারনত দুটো কাপড়ের ভেতর তুলো ঢুকিয়ে এপার ওপার সেলাই করা হয় এই পদ্ধতিতে। কম দামে খুব তাড়াতাড়ি সেলাই করে রেডি করে দেওয়া জ্যাকেটে এই সেলাই ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

২) বক্স বাফেল (Box Buffel)–

এই পদ্ধতিতে জ্যাকেট সেলাই সাধারন সেলাইয়ের মতো নয়। দুটো কাপড়ের ভেতরে আবার কাপড়ের দেওয়াল তৈরি করে সেলাই করতে হয়। এতে করে পুরো জ্যাকেট ছোট ছোট কাপড়ের বক্স(container) আকারে ভরা থাকে। এবং এই বক্স গুলর ভেতরে অনেক বেশি পরিমানে তুলো ভরা সম্ভব হয়। এর সেলাই পদ্ধতিও খুব সহজ নয়। ফলে এর দামও বেশি হয়।

জ্যাকেটের বাইরের লেয়ার যে কাপড়ের হয় সেটার মধ্যে কি কি গুন আছে সেগুলো অবশ্যই খেয়াল রাখা দরকার।

ওজন এবং টেকসই –

জ্যাকেটের ওপরের কাপড় যত পাতলা (thin layer) হবে ততই ওজনে কম হবে এবং সেটা প্যাকিং(packing) করতেও সুবিধে হয়। কিন্তু যদি একটা জ্যাকেট অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে চাও তাহলে অপেক্ষাকৃত মোটা ধরনের কাপড়ের লেয়ার দেওয়া জ্যাকেট কিনতে হবে। এক্ষেত্রে কিন্তু জ্যাকেটর ওজন বেশি হয় এবং প্যাকিং-এ জায়গাও অনেক বেশি লাগে।

ফিটিংস

জ্যাকেট এমন নেওয়া উচিত যেটা সাইজে খুব বড় নয় বা খুব ছোট্টও নয়। কারন আমরা সাধারনত শুধু জ্যাকেট পরি না। টার আগে একটা কি দুটো কাপড়ের লেয়ার পরা থাকে তার ওপর জ্যাকেট পরি তাই জ্যাকেট একদম টাইট-ফিট(tight fitt) নিলে অসুবিধা হবে।  

রেনপ্রুফ (Rainproof)

সাধারনত ডাউন বা ফেদার জ্যাকেট রেনপ্রুফ হয়না। জ্যাকেটের ওপর আলাদা করে রেনকভার পরতে হয়। তবে খুব কম কোম্পানি আছে যারা ডাউন জ্যাকেটের ওপরের লেয়ার রেনকভার ব্যবহার করে থাকে। তবে সেগুলোর দামও খুব বেশি হয়ে থাকে এবং সহজলভ্য হয়না।

অন্যান্য

কিছু ছোটখাটো ব্যাপার যেগুলো জ্যাকেট কেনার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখলে ভাল।

  • ডাউন জ্যাকেট নেওয়ার সময় অবশ্যই দেখে নেবে যেন জ্যাকেটের হুড সঙ্গে থাকে।
  • কমপক্ষে মাইনাস ৫ (-5degree) থেকে মাইনাস ১০ (-10degree)  ডিগ্রি পর্যন্ত ঠাণ্ডা আটকাতে পারে এরকম জ্যাকেট নেওয়ারই চেষ্টা কোরো।
  • জ্যাকেটের কব্জির অংশে (wrist) যেন ফাঁকা না থাকে মোড়া (cuffed) থাকলে ফাঁকা অংশ থেকে ঠাণ্ডা ঢুকতে পারেনা।  
  • জ্যাকেটের দুই ধারে প্যাডেড পকেট্‌ সবথেকে ভাল উপযোগী যখন হাত খুব ঠাণ্ডা হয়ে যায়। পকেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে রাখলে হাত গরম রাখতে সাহাজ্য করে।  

সবশেষে বলি, নতুন ডাউন জ্যাকেট কিন্তু খুব একটা কম দামের হয় না। তাই কেনার সময় খুব ভাল ভাবে যাচাই করেই কিনবে। ট্রেকিং-এর সময় অনেককিছু স্যাকে (rucksack) ভরে নিয়ে যেতে হয়। তাই এমন জ্যাকেট নেওয়া ভাল যেটা খুব কম জায়গা নেবে অথচ ভালো ঠাণ্ডা আটকাবে। আর আমার এই লেখা যদি তোমাদের উপকারে লাগে প্লিজ্‌ শেয়ার করতে ভুলনা। ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রেকিং।

Feature Photo by Rebecca Harris on Unsplash