৭ টা বেস্ট সফটওয়্যার – নিজের অ্যান্ড্রোয়েড সফটওয়্যার চালানো জন্য

অনেক সময় আমরা দেখেছি মোবাইলে গেম খেলতে খেলতে মোবাইল খুব গরম হয়ে যায়। গেম খেললে বা অনেক সফটওয়্যার একসাথে চললে মোবাইল কাজ করা বন্ধ করে হ্যাং হয়ে যায়। বা যারা ডেভেলাপ্মেন্ট শেখে তাদের ক্ষেত্রে বার বার নিজের বানানো App টেস্ট করার জন্য মোবাইলে চালাতে অসুবিধা হয়। এই সমস্যার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য একটা দারুন উপায় আছে।

এমন কিছু সফটওয়্যার আছে যেগুলো দিয়ে অ্যান্ড্রোয়েডের গেম বা সফটওয়্যার কম্পিউটারেও চালানো যায়। এগুলোকে এমুলেটর (emulator) বলে। এই এমুলেটরের সাহায্যে আমরা আমাদের মোবাইলের সমস্ত App কম্পিউটারে অনায়াসে চালাতে পারি।

আমি বেশ কয়েকটা বিখ্যাত সব এমুলেটর সফটওয়্যার নিজের কম্পিউটারে ইন্স্টল্ করে চালিয়ে দেখেছি।এখানে এমনই সাতটা সবথেকে ভালো অ্যান্ড্রোয়েড এমুলেটর Android Emulator সম্বন্ধে বলছি।

১) এক নম্বরে আছে নক্স প্লেয়ার (Nox Player)

যদি গেম খেলতে খুব ভালোবাসো তাহলে Nox Player তোমাদের জন্য উপযুক্ত। যদিও এটাতে অন্যান্য অ্যান্ড্রোয়েড App ও খুব ভালো চালানো যায়। এই এমুলেটরটা বানানোই হয়েছে গেমারদের কথা মাথায় রেখে। PUBG বা Justice League এর মতো ভারি ভারি গেম চালানোর জন্য খুব ভালো এই এমুলেটর। Nox Player এর সবথেকে ভালো বৈশিষ্ট হল এটা একদম বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং এখানে কোনও Ad ও দেখায় না।

নক্স প্লেয়ার এর সাহায্যে খুব সহজে কীবোর্ড ম্যাপিং এবং জেস্চার কন্ট্রোল করা যায়। গেম খেলার সময় কীবোর্ড, মাউস, এবং গেমপ্যাডও ব্যবহার করা যায়। মনে হবে যেন মোবাইল গেম নয়, কোনও PC গেম খেলছি।

যদি খুব স্মুথলি গেম খেলতে চাও তাহলে সেটিং -এ গিয়ে CPU আর RAM এর সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে পারো। আর যারা মডিফায়েড App বা রুটিং করতে চাও তাহলে নক্স প্লেয়ার দিয়ে তা মিনিটের মধ্যে করে ফেলতে পারবে।

তবে নক্স প্লেয়ার একটু বেশি রিসোর্স নিয়ে রাখে। সিস্টেমের ওপর খুব লোড বাড়িয়ে দেয়। এর জন্য সমস্যা হয় কি অনেক App একসাথে একই সুময় চালাতে পারে না। তবে যাদের অনেক ভালো কনফিগারেশনের PC হয় তাদের তেমন অসুবিধা হয় না।

দাম : ফ্রি

কেন ব্যবহার করবো?

  • একটা মেশিনের মধ্যেই অনেক উইন্ডোস এবং অ্যান্ড্রোয়েড একসাথে চালানো যায়।
  • কন্ট্রোলারের মধ্যে নিজের মতো শর্টকাট ম্যাপিং করতে পারা যায়।
  • রুটিং করা যায় খুব সহজে।

২) দুই নম্বরে BlueStack

সবথেকে বেশি পরিচিত অ্যান্ড্রোয়েড এমুলেটর এই BlueStacks। বিশেষ করে সহজে সেটআপ করা যায় এবং ভালো গেম খেলার জন্য বিখ্যাত এই এমুলেটর। গুগল App store ছাড়াও, এর নিজের অ্যাপ স্টোর থেকে কেবল মাত্র এই এমুলেটরের জন্য আলাদা করে বানানো App পাওয়া যায়।

তবে, BlueStack এ কীবোর্ড ম্যাপিং করা গেলেও জেস্চার কন্ট্রোল খুব একটা ভালো হয় না। এই এমুলেটরের সবথেকে খারাপ বৈশিষ্ট হল এর নিজস্ব App -এর বহর ও স্পন্সর্ড Ad। যা এমুলেটর চলার সময় প্রচুর রিসোর্স কভার করে নেয়। শুধুমাত্র এই অসুবিধার জন্য BlueStack অন্যান্য ফ্রি এমুলেটরের কাছে মার খেয়ে যায়।

যদি গেমিং পারফরম্যান্সের কথা বলতে হয়, বিশেষ করে BlueStack 4 কিন্তু গেমিং এর দিক থেকে খুব ভালো। কম CPURAM ব্যবহার করে অনেক ভালো পারফর্ম্যান্স দেয়। এমনকি, স্যামসাং গ্যালাক্সি S9 এর থেকে ছয় গুন্ বেশি পারফর্ম্যান্স এমনটাই দাবি করে থাকে BlueStack। এই এমুলেটর অ্যান্ড্রোয়েডের 7.1.2 অর্থাৎ নগেট ভার্সনের ওপর বানানো হয়েছে।

দাম : বেসিক ভার্সন বিনামূল্যে এবং ২৪ ডলারে অর্থাৎ ১৬৪৬ ভারতীয় টাকায় প্রিমিয়াম ভার্সনটি পাওয়া যায়।

কেন ব্যবহার করবো ?

  • ইন্স্টল্ করার সময় খুব বেশি টেকনিক্যাল জ্ঞানের দরকার পড়ে না। সহজে সেটআপ করা যায়।
  • অনেকগুলো একাউন্ট সাপোর্ট করে।
  • উন্নত অ্যান্ড্রোয়েড ভার্সন পাওয়া যায়।

৩) মেমু MEmu Player

অন্য দুটি উল্লেখ করা অ্যান্ড্রোয়েড এমুলেটরের থেকে মেমু অপেক্ষাকৃত নতুন এমুলেটর। অ্যান্ড্রোয়েড গেমের জন্য উদ্দেশ্য করে ২০১৫ সালে এই এমুলেটর মার্কেটে আসে। গেমিং স্পিডের দিক থেকে Nox PlayerBlueStack এর সমকক্ষ স্পিড পাওয়া যায়।

মেমু প্লেয়ারের সবথেকে ভালো বৈশিষ্ট হলো AMDNVIDIA চিপস দুটোই সাপোর্ট করে। আলাদা আলাদা অ্যান্ড্রোয়েড ভার্সন যেমন জেলিবিন, কিটক্যাট ও ললিপপ সাপোর্ট করে। তবে মেমু প্লেয়ার হাই পারফরম্যান্স গেমিংয়ের জন্য তৈরী করা হলেও গেম খেলার সময় গ্রাফিক্স ভালো ডিসপ্লে করতে পারে না। গেমের মধ্যে টেক্সচার ও স্মুথনেস Nox বা BlueStack -এর মতো ডিসপ্লে করতে পারে না।

তবে হ্যাঁ, যদি পোকেমন গো বা ইনগ্রেস খেলতে হয় তাহলে এই এমুলেটর উপযুক্ত।

দাম : বিনামূল্যে পাওয়া যায়

কেন ব্যবহার করব ?

  • কি ম্যাপিং খুব ভালো
  • গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে নকল লোকেশন ডিসপ্লে করানো যায়
  • AMD এবং Nvidia দুটো চিপই সাপোর্ট করে।

৪) Ko Player কো প্লেয়ার

অন্যান্য এমুলেটরের মতো কো প্লেয়ার ও বানানো হয়েছে যাতে করে খুব সহজে যেকোনোও অ্যান্ড্রোয়েড গেম খেলা যায়। যেহেতু, বিনামূল্যে এই এমুলেটর পাওয়া যায় তাই মাঝে মধ্যে যেখানে সেখানে Ad দেখতে পাওয়া যায়। খুব সহজেই কম্পিউটারে ইন্স্টল্ করা যায়। গেমপ্যাড ও কীবোর্ড ম্যাপিং করা যায়।

তবে আমি এই এমুলেটর ইন্স্টল্ করতে মানা করবো কারণ এমুলেটরটা চলতে চলতে হঠাৎ করে Blue Screen দেখিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। কম্পিউটার থেকে সহজে আনইনস্টল করতে পারা যায় না।

দাম : বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

কেন ব্যবহার করে :

  • এর ইউজার ইন্টারফেস খুব সহজ
  • যেকোনও অ্যান্ড্রোয়েড ডিভাইস বাছা যায়
  • সহজে ইনস্টল করা যায়

৫) টেনসেন্ট গেমিংবাডি (Tencent Gaming Buddy)

মোবাইল গেমেরে চ্যাম্পিয়ন গেম PUBG এর রোমরমার্ পর, PUBG যে কোম্পানীর বানানো, সেই টেনসেন্ট কোম্পানি কম্পিউটারে এই গেম চালানোর জন্য নিজস্ব এমুলেটর তৈরী করে। এই এমুলেটরের উদ্দেশ্যই শুধুমাত্র PUBG চালানোর জন্য ছিল। যদিও এখন শুধুমাত্র PUBG ছাড়াও টেন্সেন্ট কোম্পানির বানানো অন্য কয়েকটি গেম চালানো যায়।

টেনসেন্ট এমুলেটরের সবথেকে সুবিধা যেটা হল গেম খেলার সময় কিবোর্ড মাউস একসাথে ব্যবহার করা যায়। এমনকি call of duty এর মত কীবোর্ড এর কী সেটিং করা যেগুলো নিজের ইচ্ছে মতো পাল্টে নেওয়া যায়। PUBG ছাড়াও এরিনা অফ ভেলর, হংকাই ইমপ্যাক্ট খুব স্মুথ চলে। অনেক সহজে কম্পিউটারে ইনস্টল করা যায়।

তবে, টেনসেন্ট এমুলেটর এখনও পর্যন্ত অন্য কোনও মোবাইল App চালাতে পারেনা। মোবাইলের মতো কোনও ইউজার ইন্টারফেস পাওয়া যায় না।

দাম : বিনামূল্যে পাওয়া যায়

কেন ব্যবহার করব ?

  • PUBG খেলার আসল মজা নেওয়ার জন্য
  • অনেক স্মুথ ভাবে গেম খেলার জন্য
  • অন্যান্য এমুলেটরের মতো হ্যাং হয়ে যায় না।

৬) জেনিমোশান Genymotion

অন্যান্য অ্যান্ড্রোয়েড এমুলেটরের মতো এটা কিন্তু গেমিংয়ের জন্য নয়। এই এমুলেটরটা অ্যান্ড্রোয়েড ডেভেলাপারদের জন্যই বানান। এর সিমুলেটর দিয়ে নিজের বানানো এন্ড্রোয়েড App, অ্যান্ড্রোয়েডের বিভিন্ন ভার্সনে চালিয়ে টেস্ট করার সুবিধা আছে।এমনকি অ্যান্ড্রোয়েড এস ডি কে ও ষ্টুডিওর সাথওে কমপ্যাটিবল। ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম এবং লিনাক্স এও ইন্স্টল্ করা যায়।

যেহেতু ডেভেলাপারদের জন্য বানানো তাই তাদের কথা মাথায় রেখে এমুলেটরের ভেতরে বিভিন্ন ডেভেলাপার-ফ্রেন্ডলি ফিচার রাখা হয়েছে। যদি কেউ গেম খেলার জন্য এটা ব্যবহার করবে ভেবে থাকো তাহলে সেটা ভুল হবে।

দাম : ট্রায়াল ভার্সন / প্রিমিয়াম ভার্সন ১৩৬ ডলার

কেন ব্যবহার করব ?

  • অ্যান্ড্রোয়েড ষ্টুডিও সাপোর্ট করে
  • ম্যাক এবং লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে ইন্স্টল্ করা যায়
  • এর ভেতরে অ্যান্ড্রোয়েড ভার্সন ৪.১ থেকে ৮.০ পর্যন্ত সব ভার্সন পাওয়া যায়

৭) অ্যান্ড্রোয়েড ষ্টুডিও Android Studio

শুধুমাত্র ডেভেলাপারদের জন্য গুগল কোম্পানি থেকে পাওয়া যায় এটা। আসলে এটা একটা ডেভেলাপ্মেন্ট IDE (Integreted Developement Environment) আই ডি ই (ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট এনভায়র্নমেন্ট) যেটা শুধুমাত্র ডেভেলাপ্মেন্টের জন্যই ব্যবহার করা যায়। এটার ভেতরে অনেক টুলস এবং প্লাগিন্স দেওয়া আছে যেটা ডেভেলাপ করা App টেস্ট করার জন্য ব্যবহার হয়।

হ্যাঁ এই আই ডি ই -এর ভেতরে এমুলেটরও আছে ঠিক জেনিমশানের মতো। তবে অ্যান্ড্রোয়েড ষ্টুডিও ইন্স্টল্ করা যেমন কঠিন, তেমনই বেশির ভাগ ডেভেলাপারদের মধ্যে জনপ্রিয়।

দাম: বিনামূল্যে পাওয়া যায়

কেন ব্যবহার করব ?

  • গুগলের নিজস্ব এমুলেটর
  • রেগুলার আপডেট দিয়ে থাকে

উইন্ডোজ ৭, ৮ এবং ১০ -এ চালানোর মতো সবথেকে ভালো সাতটা অ্যান্ড্রোয়েড এমুলেটরের হদিস দিলাম। এইসব এমুলেটরগুলো দিয়ে অনায়াসে মোবাইলের গেম হোক বা App, সবকিছু চালিয়ে টেস্ট করে নেওয়া যায়। তবে বলে রাখি কোনও এমুলেটরই কিন্তু সম্পূর্ণ বাগ ফ্রি নয়। এমুলেটর চালানোর সময় কিছু না কিছু অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়। তবে এটা মাথায় রাখতে হবে যে এইসব এমুলেটরের পারফরম্যান্স কিন্তু নিজের কম্পিউটারের স্পেসিফিকেশনের ওপর নির্ভর করে।

যদি কোনও রকম কোনও সাজেশান থাকে তাহলে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবে।